এশিয়া-প্যাসিফিক শেয়ারবাজার সূচকগুলো গতকাল রেকর্ড উচ্চতা পৌঁছেছে। এ প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারদরের উত্থান এবং জাপানের নির্বাচনে সানায়ে তাকাইচির বিজয়। একই সময় প্রকাশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য। এটি ডলারকে আরো শক্তিশালী ও ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সংক্ষিপ্ত মেয়াদি প্রত্যাশা নিম্নমুখী করেছে। খবর রয়টার্স।
প্রযুক্তি খাতের উত্থানে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের শেয়ারবাজার সূচকগুলো গতকাল রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। ফলে এশিয়া-প্যাসিফিক শেয়ারের বিস্তৃত সূচক এমএসসিআই নতুন রেকর্ড গড়েছে। সূচকটি দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় সপ্তাহে প্রায় ১৩ শতাংশ মুনাফা করেছে এমএসসিআই।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিজয়ের পর থেকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে জাপানের শেয়ারবাজার। নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনৈতিক শিথিলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সপ্তাহজুড়ে ইয়েন ২ দশমিক ৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাকাইচি সরকার অর্থনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল হবে এমন প্রত্যাশা থেকে মুদ্রাবাজার শক্তিশালী হয়েছে।
ইউরোপীয় ফিউচার সূচকগুলোও শক্তিশালী সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছে গতকাল। কারণ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুম হওয়ায় করপোরেট খাত নিয়ে আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা। তাদের মনোযোগের কেন্দ্রে আরো রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অর্থনৈতিক প্রতিবেদন। গত বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গত মাসে মার্কিন শ্রমবাজার অপ্রত্যাশিতভাবে গতিশীল ছিল এবং বেকারত্বের হার কিছু কমেছে। সামগ্রিকভাবে এটি দেশটির শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সুদহার অপরিবর্তিত রাখার দিকে যেতে পারে ফেড।
ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) পরবর্তী সভা হবে মার্চে। মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের আগে ওই সভায় কমপক্ষে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর প্রত্যাশা ছিল ২০ শতাংশ। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাজার প্রত্যাশা প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বাজার এখনো প্রত্যাশা করছে, চলতি বছরে অন্তত দুই দফা সুদহার কমাতে পারে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সাধারণত ফেডের সুদহার প্রত্যাশার ভিত্তিতে ওঠানামা করে দুই বছরের মার্কিন ট্রেজারি রিটার্ন। সর্বশেষ সেশনে এটি ৫ দশমিক ৮ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৫০৫ শতাংশ হয়েছে, যা অক্টোবরের শেষ নাগাদ থেকে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
এ উচ্চ রিটার্ন ডলারের মানকে কিছুটা সহায়তা করেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, ফেডের স্বাধীনতা ও নীতি সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণে ডলারকে শক্তিশালী রাখতে আরো ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য প্রয়োজন।
ওসিবিসির কৌশলবিদরা একটি নোটে বলেছেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের শেয়ার সূচকগুলো ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স ভালো করছে। এতে ডলারের অবমূল্যায়ন হতে পারে।’
বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, আজ প্রকাশ হতে যাওয়া মূল্যস্ফীতি তথ্য সুদহার সম্পর্কিত বাজার প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করবে। এর ওপরও নির্ভর করছে আগামী দিনের বিনিয়োগ।
এদিকে মুদ্রাবাজার ডলার শক্তিশালী হলেও ব্যতিক্রম হিসেবে পুনরায় শক্তিশালী হয়েছে ইয়েন। কারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, নির্বাচনে বিপুল বিজয় জাপান সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন কমাবে।